দেশের ব্যাংকিং খাতে এক নতুন যুগের সূচনা করে প্রথম আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘সুইফট স্কিম’ সেবায় যুক্ত হয়েছে সিটি ব্যাংক। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যক্তিপর্যায় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের লেনদেন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজ করার লক্ষ্যেই এই আধুনিক প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি ঘটানো হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে এই যুগান্তকারী অর্জনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ছোট আকারের বৈদেশিক অর্থ লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।
বর্তমানে এই সেবার আওতায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার মার্কিন ডলার বা এর সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানো এবং গ্রহণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে, শুধু সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টধারীই নন, বরং অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহকেরাও এই প্ল্যাটফর্মের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে আন্তসীমান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রচলিত দীর্ঘসূত্রিতা কমবে এবং সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরাসরি এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।
‘সুইফট স্কিম’ মূলত আন্তসীমান্ত পেমেন্ট বা লেনদেন ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সর্বাধুনিক কাঠামো। এই প্রযুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—লেনদেনের সম্পূর্ণ অর্থ প্রাপ্তির শতভাগ নিশ্চয়তা, প্রক্রিয়াকরণের শুরুতেই খরচের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা প্রদান, লেনদেন লাইভ ট্র্যাক করার সুবিধা এবং কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক সেবা পাওয়ার সুযোগ। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক মানদণ্ডে দেশের ব্যাংকিং খাতের সক্ষমতা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি সুইফট এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংকের এই ঐতিহাসিক অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান এবং সুইফটের সিইও ও রিজিওনাল হেড (ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া) কিরণ শেঠি সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) মাসরুর আরেফিনের হাতে একটি সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মাহিয়া জুনেদ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মেসবাউল আসিফ সিদ্দিকীসহ ব্যাংকটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া সুইফটের হিসাব পরিচালক (ভারত) ও কান্ট্রি ম্যানেজার অর্পিতা ঘোষও এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।
Reporter Name 























