Dhaka ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের হুংকার জামায়াত আমিরের, সরকারের বিরুদ্ধে ধোঁকাবাজির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকারের ভূমিকা এবং বিরোধী দলের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এই সমাবেশটি দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়েছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিপ্লব কোনো বয়স মানে না এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজসহ দেশের ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষ যেভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল, আগামী দিনেও যেকোনো অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একইরকম আপসহীন মনোভাব বজায় থাকবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড ছিল না, এর আসল মাস্টারমাইন্ড হলো দেশের নির্যাতিত সাধারণ মানুষ। শহীদদের কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার না করে তাদের যথাযথ সম্মান, এবং আহত ও পঙ্গু যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জোর দাবি জানান তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনপূর্ব দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি থেকে বর্তমান প্রশাসন সরে আসছে এবং গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে জাতির সঙ্গে ধোঁকাবাজি করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে এত বিশ্বাসঘাতকতা কেন করা হলো? গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিভিন্ন চাপ ও প্রলোভন উপেক্ষা করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি, শিক্ষাঙ্গনগুলোতে আবারও ফ্যাসিবাদী আচরণ ও ‘গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি’ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি যেখানেই ফ্যাসিবাদ মাথা তুলবে, সেখানেই কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সমাবেশে অংশ নেওয়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিভেদ সৃষ্টি না করে এমন কোনো পরিস্থিতিতে দেশকে নিয়ে যাওয়া উচিত নয় যার পতন অনিবার্য করে তোলে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক হুংকার দিয়ে বলেন, দেশের যেকোনো প্রান্তে জুলুমের পুনরাবৃত্তি ঘটলে সাধারণ মানুষ ও মাদ্রাসার ছাত্ররা আবারও রাজপথে নেমে আসবে। এছাড়া তিনি প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকেও অতীতের সহিংস ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির পথ পরিহার করার আহ্বান জানান। ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের এই যৌথ সমাবেশে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখা, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর জোর দেওয়া হয়।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন: শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের হুংকার জামায়াত আমিরের, সরকারের বিরুদ্ধে ধোঁকাবাজির অভিযোগ

Update Time : ০৬:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকারের ভূমিকা এবং বিরোধী দলের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এই সমাবেশটি দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়েছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিপ্লব কোনো বয়স মানে না এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজসহ দেশের ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষ যেভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল, আগামী দিনেও যেকোনো অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একইরকম আপসহীন মনোভাব বজায় থাকবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড ছিল না, এর আসল মাস্টারমাইন্ড হলো দেশের নির্যাতিত সাধারণ মানুষ। শহীদদের কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার না করে তাদের যথাযথ সম্মান, এবং আহত ও পঙ্গু যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জোর দাবি জানান তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনপূর্ব দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি থেকে বর্তমান প্রশাসন সরে আসছে এবং গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে জাতির সঙ্গে ধোঁকাবাজি করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে এত বিশ্বাসঘাতকতা কেন করা হলো? গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিভিন্ন চাপ ও প্রলোভন উপেক্ষা করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি, শিক্ষাঙ্গনগুলোতে আবারও ফ্যাসিবাদী আচরণ ও ‘গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি’ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি যেখানেই ফ্যাসিবাদ মাথা তুলবে, সেখানেই কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সমাবেশে অংশ নেওয়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিভেদ সৃষ্টি না করে এমন কোনো পরিস্থিতিতে দেশকে নিয়ে যাওয়া উচিত নয় যার পতন অনিবার্য করে তোলে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক হুংকার দিয়ে বলেন, দেশের যেকোনো প্রান্তে জুলুমের পুনরাবৃত্তি ঘটলে সাধারণ মানুষ ও মাদ্রাসার ছাত্ররা আবারও রাজপথে নেমে আসবে। এছাড়া তিনি প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকেও অতীতের সহিংস ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির পথ পরিহার করার আহ্বান জানান। ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের এই যৌথ সমাবেশে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখা, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর জোর দেওয়া হয়।