ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা এবং গাজার বেসামরিকীকরণের শর্তে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থান এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ইসরায়েলি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা উপত্যকা থেকে কোনোভাবেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না।
এর আগে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগে একটি বড় ধরনের মাইলফলক অর্জিত হয়েছে এবং ইসরায়েল এই পরিকল্পনা নিয়ে সন্তুষ্ট। গত অক্টোবর মাসে নীতিগতভাবে সম্মতি পাওয়ার পর এই পরিকল্পনা অনুযায়ী হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। তবে পরিকল্পনার ঘোষণা আসার পর থেকেই দুই পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থানে জটিলতা ঘনীভূত হতে শুরু করে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা শর্ত জুড়ে দেন যে, হামাসকে আগে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হতে হবে, অন্যদিকে হামাস সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ এবং পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না।
গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এই শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, মার্কিন প্রস্তাবিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর শর্তাবলীতে ইসরায়েল পুরোপুরি রাজি হয়নি। ওয়াশিংটনের পাঠানো খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে তারা পর্যালোচনা করেছেন এবং নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়ে সেটি ফিরিয়ে দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সদস্য ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, গাজার সুড়ঙ্গগুলো ধ্বংস করা এবং হামাসকে ক্ষমতাচ্যুত ও নিরস্ত্র করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সেনা বহাল থাকবে।
প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, গাজায় ‘ইয়েলো লাইন’ নামে একটি নির্ধারিত সীমারেখায় ইসরায়েলি বাহিনীর ফিরে যাওয়ার কথা ছিল, যার ফলে গাজার ৪৭ শতাংশ এলাকা ফিলিস্তিনিদের এবং ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের পরিবর্তে ইসরায়েল গাজায় নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়ে বর্তমানে ভূখণ্ডটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা নিজেদের দখলে রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উদ্যোগ হওয়ায় নেতানিয়াহু কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি গাজা থেকে একচুলও সেনা সরাতে ইচ্ছুক নন। বিশেষ করে ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টর ডানপন্থী জোটসঙ্গীদের চাপের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু। উগ্র ডানপন্থীদের সমর্থন ধরে রাখতে তাঁর এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকতে পারে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
Reporter Name 



















