Dhaka ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়: ঢাকার তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ Time View

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করার সুযোগ দেওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ঢাকা। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এ বিষয়ে ভারতীয় পক্ষকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তথাপি, ভারতের মাটিতে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অনুভূতির প্রতি এক ধরনের অবমূল্যায়ন ঘটেছে বলে মনে করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানটিতে শেখ হাসিনা এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর আপামর জনসাধারণের বিরুদ্ধে নানা ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য ও প্রোপাগান্ডা চালিয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এমন একটি দিনে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে। ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালীন শিশুসহ শত শত নিরীহ নাগরিকের ওপর যে পৈশাচিক গণহত্যা চালানো হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিন্দিত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ অস্বীকার করার অপচেষ্টা মূলত ইতিহাসের গতিধারাকে ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি ব্যর্থ ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। দেশবাসী দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছে যে, বাংলাদেশ আর কখনো কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে না এবং কোনো বৈদেশিক শক্তির তাঁবেদার রাষ্ট্রেও পরিণত হবে না। ক্ষমতাচ্যুত এই স্বৈরাচারী চক্র ও তাদের দোসরদের স্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চিরতরে নিষিদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ সর্বদা ভারতের সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভূরাজনৈতিক সম্প্রীতির ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা এবং জাতীয় মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রেখেই ভবিষ্যৎমুখী কূটনীতিতে বিশ্বাস করে ঢাকা।

তবে হতাশার বিষয় হলো, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও নয়াদিল্লি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এর বিপরীতে, তাঁকে আশ্রয় ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ প্রদান বাংলাদেশের আপামর জনগণের হৃদয়ে গভীর আঘাত হেনেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পলাতক আসামিকে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থার সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের ঘটনা রোধে ভারতের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

বিতর্ক আর ভালোবাসার মেলবন্ধনে নেটফ্লিক্সে ঝড় তুলেছে রিয়েলিটি শো ‘লক আপ’

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়: ঢাকার তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ

Update Time : ০১:০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করার সুযোগ দেওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ঢাকা। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এ বিষয়ে ভারতীয় পক্ষকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তথাপি, ভারতের মাটিতে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অনুভূতির প্রতি এক ধরনের অবমূল্যায়ন ঘটেছে বলে মনে করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানটিতে শেখ হাসিনা এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর আপামর জনসাধারণের বিরুদ্ধে নানা ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য ও প্রোপাগান্ডা চালিয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এমন একটি দিনে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে। ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালীন শিশুসহ শত শত নিরীহ নাগরিকের ওপর যে পৈশাচিক গণহত্যা চালানো হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিন্দিত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ অস্বীকার করার অপচেষ্টা মূলত ইতিহাসের গতিধারাকে ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি ব্যর্থ ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। দেশবাসী দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছে যে, বাংলাদেশ আর কখনো কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে না এবং কোনো বৈদেশিক শক্তির তাঁবেদার রাষ্ট্রেও পরিণত হবে না। ক্ষমতাচ্যুত এই স্বৈরাচারী চক্র ও তাদের দোসরদের স্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চিরতরে নিষিদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ সর্বদা ভারতের সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভূরাজনৈতিক সম্প্রীতির ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা এবং জাতীয় মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রেখেই ভবিষ্যৎমুখী কূটনীতিতে বিশ্বাস করে ঢাকা।

তবে হতাশার বিষয় হলো, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও নয়াদিল্লি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এর বিপরীতে, তাঁকে আশ্রয় ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ প্রদান বাংলাদেশের আপামর জনগণের হৃদয়ে গভীর আঘাত হেনেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পলাতক আসামিকে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থার সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের ঘটনা রোধে ভারতের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।