Dhaka ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে আনসার বাহিনীকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার প্রত্যয় ডিজি মহোদয়ের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক চেতনা এবং জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া জোরালোভাবে অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় এ কথা জানান বাহিনীটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। রাজধানীর খিলগাঁওস্থ আনসার ও ভিডিপি সদরদপ্তরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, চব্বিশের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোয় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। জনগণের যে আকঙ্ক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আনসার ও ভিডিপির প্রশাসনিক কাঠামো, মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল কার্যক্রমে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাহিনীর প্রতিটি স্তরে সাম্য, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন যে, জনসাধারণের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা এবং সেবামূলক মানসিকতাই সরকারি দায়িত্ব পালনের মূল শর্ত। একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও কার্যকর বাহিনী গঠনে সকল সদস্য আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যার ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হয়েছে। চলমান সংস্কারের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে বাহিনীর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৈষম্য দূরীকরণ, সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন এবং সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়ে তিনি ভবিষ্যতের যেকোনো বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটময় সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাসমূহ, বিভিন্ন দপ্তর এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার সদস্যদের নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের ভূয়সী প্রশংসা করেন মহাপরিচালক। তিনি জানান, দেশের ক্রান্তিলগ্নে যেভাবে এই বাহিনী পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে, ভবিষ্যতেও সেই ধারা বজায় রেখে জনকল্যাণে কাজ করে যাওয়া হবে। দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব রেঞ্জ, জেলা, মেট্রোপলিটন এলাকা, ব্যাটালিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী পাঠ, শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে নির্মিত বেশ কিছু প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

মাগুরায় সাবেক এমপি ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, মোতায়েন অতিরিক্ত পুলিশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে আনসার বাহিনীকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার প্রত্যয় ডিজি মহোদয়ের

Update Time : ০৩:০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক চেতনা এবং জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া জোরালোভাবে অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় এ কথা জানান বাহিনীটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। রাজধানীর খিলগাঁওস্থ আনসার ও ভিডিপি সদরদপ্তরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, চব্বিশের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোয় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। জনগণের যে আকঙ্ক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আনসার ও ভিডিপির প্রশাসনিক কাঠামো, মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল কার্যক্রমে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাহিনীর প্রতিটি স্তরে সাম্য, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন যে, জনসাধারণের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা এবং সেবামূলক মানসিকতাই সরকারি দায়িত্ব পালনের মূল শর্ত। একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও কার্যকর বাহিনী গঠনে সকল সদস্য আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যার ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হয়েছে। চলমান সংস্কারের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে বাহিনীর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৈষম্য দূরীকরণ, সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন এবং সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়ে তিনি ভবিষ্যতের যেকোনো বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটময় সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাসমূহ, বিভিন্ন দপ্তর এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার সদস্যদের নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের ভূয়সী প্রশংসা করেন মহাপরিচালক। তিনি জানান, দেশের ক্রান্তিলগ্নে যেভাবে এই বাহিনী পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে, ভবিষ্যতেও সেই ধারা বজায় রেখে জনকল্যাণে কাজ করে যাওয়া হবে। দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব রেঞ্জ, জেলা, মেট্রোপলিটন এলাকা, ব্যাটালিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী পাঠ, শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে নির্মিত বেশ কিছু প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।