Dhaka ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে গুম হওয়া ৭০০ মানুষের স্বজনেরা আজও অপেক্ষায়: আইনমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

বিগত সরকারের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গুম হওয়া সাতশতাধিক মানুষের পরিবার আজও গভীর উৎকণ্ঠা ও কান্নায় দিন কাটাচ্ছে। স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় আজও তারা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে অপেক্ষা করে আছেন। গত বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক বিশেষ আবৃত্তি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মর্মস্পর্শী কথাগুলো তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত প্রায় ১৬ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই দীর্ঘ সময়ে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। বিরোধী মতের রাজনীতি করার অপরাধে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে বানোয়াট ও গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ক্রসফায়ারের নামে বিনা বিচারে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি লক্ষ্য করেন যে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আবৃত্তি শিল্পটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল। এই বৈষম্য দূর করতে এবং শিল্পকে এগিয়ে নিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নাচ ও গানের পাশাপাশি আবৃত্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির একটি স্বীকৃত শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের ভূয়সী প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হলো একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, নির্মল এবং রক্তপাতহীন সমাজ গঠন করা, যেখানে মানুষের মননশীলতা বিকশিত হবে। এই ধরনের সুন্দর সমাজ গড়ার স্বপ্নই দেশের সংস্কৃতিকর্মীরা আজীবন লালন করে আসছেন। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই উৎসবে আবৃত্তি ফেডারেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও দেশের বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পীরা অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল দেশের সংস্কৃতি ও মননশীলতার নানা পরিবেশনা।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ

বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে গুম হওয়া ৭০০ মানুষের স্বজনেরা আজও অপেক্ষায়: আইনমন্ত্রী

Update Time : ০২:৩৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বিগত সরকারের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গুম হওয়া সাতশতাধিক মানুষের পরিবার আজও গভীর উৎকণ্ঠা ও কান্নায় দিন কাটাচ্ছে। স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় আজও তারা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে অপেক্ষা করে আছেন। গত বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক বিশেষ আবৃত্তি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মর্মস্পর্শী কথাগুলো তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত প্রায় ১৬ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই দীর্ঘ সময়ে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। বিরোধী মতের রাজনীতি করার অপরাধে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে বানোয়াট ও গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ক্রসফায়ারের নামে বিনা বিচারে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি লক্ষ্য করেন যে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আবৃত্তি শিল্পটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল। এই বৈষম্য দূর করতে এবং শিল্পকে এগিয়ে নিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নাচ ও গানের পাশাপাশি আবৃত্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির একটি স্বীকৃত শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের ভূয়সী প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হলো একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, নির্মল এবং রক্তপাতহীন সমাজ গঠন করা, যেখানে মানুষের মননশীলতা বিকশিত হবে। এই ধরনের সুন্দর সমাজ গড়ার স্বপ্নই দেশের সংস্কৃতিকর্মীরা আজীবন লালন করে আসছেন। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই উৎসবে আবৃত্তি ফেডারেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও দেশের বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পীরা অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল দেশের সংস্কৃতি ও মননশীলতার নানা পরিবেশনা।