আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বিচারাধীন জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলার পলাতক আসামি ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য দেশের সকল সংবাদমাধ্যমের প্রতি পুনর্বার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রেস তথ্য বিবরণীতে রাষ্ট্র ও আইনের এই কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।
তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পূর্বে প্রদত্ত এক আদেশে পলাতক আসামি শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য গণমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের এই আইনি সিদ্ধান্তটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং ওই আন্দোলনে প্রাণ বিসর্জনকারী শহীদদের আত্মত্যাগের সাথে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশের বিচারিক আদেশ ও সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ন রাখতে আদালতের এ নির্দেশনা মেনে চলা সকল নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক।
মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শেখ হাসিনার পূর্বে দেওয়া বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক ও উসকানিমূলক বক্তব্য অবিলম্বে দেশের প্রচলিত ও ডিজিটাল সকল মাধ্যম থেকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ বাস্তবায়নে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) যৌথভাবে কাজ করছে। অনলাইন স্পেস, সোশ্যাল মিডিয়া এবং সম্প্রচার মাধ্যম থেকে এ ধরনের অডিও, ভিডিও বা লিখিত বক্তব্য স্থায়ীভাবে সরাতে এবং নতুন করে ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আলোকে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিও (এনসিএসএ) বিষয়টি নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। সার্বিক সাইবার নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় প্রচলিত আইনের নির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ করে সংস্থাটি গণমাধ্যমকে দণ্ডিত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য প্রচারে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। সাইবার স্পেসকে অপপ্রচার ও হিংসাত্মক ভাষণ থেকে মুক্ত রাখতে সংবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ বিচার বিভাগের নির্দেশনা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে চললেও, কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এখনো আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পলাতক আসামির বক্তব্য প্রচার ও প্রকাশ করছে। গণমাধ্যমের এই অংশের এহেন কর্মকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিচারিক আদেশ অমান্য করে বিচারপ্রক্রিয়াকে অকার্যকর করার চেষ্টা বা বিভ্রান্তি ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অবশ্য যেসব গণমাধ্যম ও সংবাদপ্রতিষ্ঠান আইনি বিধিনিষেধ মেনে সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে এবং বিতর্কিত বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত রয়েছে, তাদের বিজ্ঞপ্তিতে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। সরকার মনে করে, জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ ও চেতনার প্রতি সম্মান দেখানো প্রতিটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের কর্তব্য।
পরিশেষে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখা এবং দেশের বিদ্যমান আইন ও বিচারিক বাধ্যবাধকতা সমুন্নত রাখার স্বার্থে দেশের সকল সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, এফএম রেডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, পলাতক বা দণ্ডিত আসামির কোনো ধরনের মতামত, ভিডিও বা লিখিত বার্তা কোনো মাধ্যমে সম্প্রচার বা প্রকাশ না করার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পুনরায় বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।
Reporter Name 




















