সন্ধ্যা নামলেই চারপাশের চেনা জগৎ যেন এক অদৃশ্য রহস্যের চাদরে ঢেকে যায়। পুরান ঢাকার নারিন্দার এক পুরোনো ও জরাজীর্ণ তিনতলা বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে ২৯ বছর বয়সী লোকনাথ দাসের মনে হয়, প্রকৃতির এই গোধূলিবেলার মতো রহস্যময় আর কিছু হতে পারে না। একসময়ের কবি লোকনাথ এখন জীবিকার তাগিদে একটি প্রকাশনা সংস্থায় অনুবাদ ও সম্পাদনার কাজ করেন। ওই বাড়ির তিনতলার একটি ছোট কক্ষে তিনি সাবলেট থাকেন। বাড়িটির মূল মালিক রামশংকর আচার্য একজন জ্যোতিষার্ণব এবং হস্তরেখাবিশারদ। তাঁর স্ত্রী প্রভাবতী ইসলামপুর থেকে শাড়ি এনে বিক্রি করেন। নিঃসন্তান এই দম্পতির তনুগঞ্জ লেনে একটি চেম্বার রয়েছে, যেখানে তাঁরা সন্ধ্যার সময় কাটান।
বুধবারের এক অবিরাম বৃষ্টির পর সন্ধ্যার আবহাওয়া আরও স্নিগ্ধ হয়ে ওঠে। ভেজা ছাদে দাঁড়িয়ে কফি পানের একপর্যায়ে লোকনাথের মনে ভেসে ওঠে অদ্ভুত সব স্বপ্ন ও কল্পনা। মনের অজান্তেই তিনি তার সহকর্মী অত্রি সুরকে নিয়ে নানা অবাস্তব ও কল্পনার জাল বুনতে শুরু করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ছাদের নিরবতা ভেঙে হাজির হন স্বয়ং অত্রি সুর। তাঁর উপস্থিতি লোকনাথকে হতবাক করে দেয়। জানা যায়, অত্রি সুর জ্যোতিষার্ণব রামশংকরের কাছে এসেছিলেন তাঁর ভাইয়ের কোষ্ঠী বিচার করাতে। কিন্তু জ্যোতিষার্ণবকে না পেয়ে এবং ছাদের গেট খোলা থাকায় তিনি ওপরে চলে আসেন।
কথোপকথনের একপর্যায়ে লোকনাথ ও অত্রির মধ্যে পুরোনো কিছু স্মৃতির রোমন্থন হয়। কিছুদিন আগে নর্থব্রুক হল রোডে অত্রিকে এক যুবকের সঙ্গে রিকশায় দেখে লোকনাথের মনে যে ঈর্ষা বা কৌতূহল জন্ম নিয়েছিল, অত্রি স্পষ্ট করে জানান যে সেই যুবকটি আর কেউ নন, তাঁর আপন ‘ছোড়দা’। এমনকি সেদিন অত্রি কী রঙের পোশাক পরেছিলেন, তা নির্ভুলভাবে বলে দিয়ে লোকনাথ সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। কফি খাওয়ার ফাঁকে দুজনে ভাগাভাগি করে নেন জীবনের নানা ছোটখাটো অনুভূতি।
এই আকস্মিক ও নাটকীয় মোড় শুধু একটি সাধারণ সাক্ষাৎকেই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে রূপ দেয় না, বরং দুই জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। অত্রি সুরের অকপট স্বীকারোক্তি এবং লোকনাথের প্রতি তাঁর অপ্রত্যাশিত ভালোলাগা এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির তৈরি করে। পরিশেষে, সব জল্পনা ও কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাস্তব রূপ নেয় তাদের এই গোপন ভালোলাগা। অত্রি সুর ও লোকনাথের বৈবাহিক বন্ধনের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায় এক অনন্য প্রেমের গল্প। লোকনাথের জীবনের সেই গোধূলিবেলার রহস্যময়তা আর কেবল কল্পনায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বাস্তবের আলোয় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
Reporter Name 





















