ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে সাপের কামড়ে এক নারী ও এক শিশুর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বাড়ির আশপাশে কাজ ও খেলাধুলার সময় গর্তে হাত-পা চলে যাওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ অঞ্চলে সাপের উপদ্রব এবং এসংক্রান্ত সচেতনতার অভাব নিয়ে স্থানীয় মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকাল ও দুপুরের দিকে সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পিসনাইল ও সোনাতন্দী গ্রামে পৃথক এই দুটি ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন পিসনাইল গ্রামের প্রেমানন্দ মণ্ডলের স্ত্রী সরস্বতী মণ্ডল (৪২) এবং অন্যজন সোনাতন্দী গ্রামের সাইদুল মোল্লার তিন বছরের শিশু কন্যা সাকিবা আক্তার।
পরিবার ও স্থানীয়দের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে বাড়ির পাশে দৈনন্দিন কাজের সময় অসাবধানতাবশত একটি মাটির গর্তে পা চলে যায় সরস্বতী মণ্ডলের। তাৎক্ষণিকভাবে গর্তের ভেতর থেকে বিষধর সাপ তাঁকে আক্রমণ ও দংশন করে। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের সোনাতন্দী গ্রামে অন্য একটি ঘটনায় প্রাণ হারায় শিশু সাকিবা আক্তার। দুপুরে নিজ বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় সে একটি ইঁদুরের গর্তে হাত দেয়। গর্তের ভেতরে থাকা বিষধর সাপ তাকে ছোবল দেয়। কিন্তু প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টি বুঝতে না পেরে পরিবারের লোকজন তাকে স্থানীয় এক ওঝা বা কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। কবিরাজ সাপে কাটার কোনো আলামত নেই বলে আশ্বস্ত করলে পরিবার কিছুটা বিভ্রান্ত হয়। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান জানান, সাপের কামড়ে একই দিনে দুটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এদিকে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালীন কিংবা আর্দ্র আবহাওয়ায় সাপের আনাগোনা গ্রামীণ জনপদে বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ইঁদুরের গর্ত বা ঝোপঝাড়ে সাপ লুকিয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে সাপের কামড়ের পর এখনও আধুনিক চিকিৎসার পরিবর্তে কবিরাজি বা ওঝার শরণাপন্ন হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা বহু ক্ষেত্রে রোগীর জীবন রক্ষায় প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্থানীয় প্রশাসন মনে করছে, সাপের কামড়ের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম বা প্রতিষেধক গ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে বহু মূল্যবান প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। এ বিষয়ে গ্রামীণ জনপদে সচেতনতামূলক প্রচারণার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন।
Reporter Name 



















