বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারে পরিবার নিয়ে আনন্দদায়ক অবকাশ যাপন করতে এসে এক পর্যটকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকার একটি অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেলের সুইমিং পুলে গোসল করতে নেমে মিরাজ আহমদ (৩৮) নামের ওই পর্যটকের প্রাণহানি হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, সাঁতার কাটা বা পানিতে নামার সময় হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। নিহত মিরাজ আহমদ মুন্সিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং দুই দিনের সংক্ষিপ্ত ছুটিতে স্ত্রী ও সন্তানসহ কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, গত সোমবার মিরাজ আহমদ তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুন্সিগঞ্জ থেকে রওনা দিয়ে কক্সবাজারে পৌঁছান এবং মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ইনানী সৈকতের স্বনামধন্য ‘হোটেল বে-ওয়াচ’-এ রুম বুক করে ওঠেন। ঘটনার দিন মঙ্গলবার দুপুরের দিকে, অর্থাৎ বেলা তিনটার দিকে, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হোটেলের সুইমিং পুলে জলকেলিতে অংশ নিতে নামেন। আনন্দঘন সেই মুহূর্তটি কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষাদে রূপ নেয়, যখন মিরাজ আহমদ হঠাৎ পুলে অচেতন হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের আর্তচিৎকারে তাৎক্ষণিকভাবে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন এবং দ্রুত তাঁকে পানি থেকে তুলে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হাসপাতাল থেকে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিহত পর্যটকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর শারীরিক অসুস্থতার পূর্ব ইতিহাস সম্পর্কে জানা গেছে। মিরাজ আহমদ আগে থেকেই হৃদরোগ বা কার্ডিয়াক জটিলতায় ভুগছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুইমিং পুলে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ঠাণ্ডা পানির সংস্পর্শে আসার কারণে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হতে পারে বলে চিকিৎসকরাও প্রাথমিক অনুমান করেছেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় উখিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হয়। পরিবারের আবেদনের যৌক্তিকতা বিবেচনা করে এবং কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় পুলিশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন না করেই মরদেহটি পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে পর্যটকদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে বিনোদনমূলক সুইমিং পুল ব্যবহারের সময় স্বাস্থ্যগত সতর্কতা এবং লাইফগার্ড ও জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
Reporter Name 



















