শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হট্টগোল ও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, উক্ত অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সক্রিয় জুলাই যোদ্ধাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানের মূল পর্বে আমন্ত্রণ ও আসন বিন্যাস নিয়ে একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতি ও শারীরিক লাঞ্ছনায় রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিগত জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শরীয়তপুরের রাজপথে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া আহত ও সংগ্রামী ছাত্রদের সম্মান জানাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠান চলাকালীন সুনির্দিষ্ট কিছু আসন বা সম্মাননা স্মারক প্রদানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে আমন্ত্রিত জুলাই যোদ্ধাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং কয়েকজন নেতাকর্মী ওই যোদ্ধাদের ওপর চড়াও হন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের স্থানীয় প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, যে তরুণদের আত্মত্যাগ এবং রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সুবাদে আজ দেশে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ ও বাকস্বাধীনতা ফিরে এসেছে, তাদেরই এভাবে হেনস্তা করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। আহত যোদ্ধারা অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এদিকে, অভিযুক্ত বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব দাবি করেছে যে, তাদের নাম জড়িয়ে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। তবুও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলাজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অনভিপ্রেত সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হয়।
Reporter Name 




















