Dhaka ০১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের ঐতিহাসিক কিনব্রিজ ঢেকে সাইনেজ নির্মাণ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড়

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View

সিলেট নগরীর প্রায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের একাংশ আড়াল করে ‘আই লাভ সিলেট’ শীর্ষক একটি আলোকসজ্জিত সাইনেজ নির্মাণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সুরমা নদীর বুকে প্রায় ৯০ বছর আগে মাথা তুলে দাঁড়ানো এই প্রাচীন সেতুটি কেবল একটি অবকাঠামোই নয়, বরং সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের আবেগ ও ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশেই সাইনেজ বসানোর ফলে এর দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই নির্মাণকাজের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। ফেসবুকে নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীসহ বহু বিশিষ্ট নাগরিক এই অপরিকল্পিত উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনার মূল সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা বিনষ্ট করে এ ধরনের সাইনেজ স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে নগর পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দূরদর্শিতা ও সমন্বয়ের অভাবের বিষয়টি বারবার সামনে আসছে। অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন যে, সাইনেজটি এমন কোনো উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা যেত, যেখানে সেতুর ঐতিহাসিক সৌন্দর্যও অক্ষুণ্ন থাকত এবং পর্যটকদের আকর্ষণের বিষয়টিও পূরণ হতো।

এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য একটি আকর্ষণীয় স্পট তৈরি এবং নগরের নান্দনিকতা বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এবং তাদের নিজস্ব অর্থায়নে এই সাইনেজটি তৈরি করা হচ্ছে। এর জন্য সিটি করপোরেশন কোনো আর্থিক লেনদেন না করলেও কেবল স্থান ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে কাজটির শেষ পর্যায়ে এসে জনমনে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা করণিক ও পরিকল্পনাগত ত্রুটির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিষয়টি নিয়ে তারা অবগত আছেন এবং গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নগরের পরিবেশ, প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। খুব দ্রুতই সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদি কিনব্রিজের দৃষ্টিসীমায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে তা দূর করতে সাইনেজের স্থান পরিবর্তন বা যথাযথ সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নগরবাসীর আবেগ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরিকল্পিত উদ্যোগ রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: রাষ্ট্র সংস্কার ও অসমাপ্ত এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথরেখা

সিলেটের ঐতিহাসিক কিনব্রিজ ঢেকে সাইনেজ নির্মাণ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড়

Update Time : ১২:২৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

সিলেট নগরীর প্রায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের একাংশ আড়াল করে ‘আই লাভ সিলেট’ শীর্ষক একটি আলোকসজ্জিত সাইনেজ নির্মাণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সুরমা নদীর বুকে প্রায় ৯০ বছর আগে মাথা তুলে দাঁড়ানো এই প্রাচীন সেতুটি কেবল একটি অবকাঠামোই নয়, বরং সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের আবেগ ও ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশেই সাইনেজ বসানোর ফলে এর দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই নির্মাণকাজের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। ফেসবুকে নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীসহ বহু বিশিষ্ট নাগরিক এই অপরিকল্পিত উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনার মূল সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা বিনষ্ট করে এ ধরনের সাইনেজ স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে নগর পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দূরদর্শিতা ও সমন্বয়ের অভাবের বিষয়টি বারবার সামনে আসছে। অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন যে, সাইনেজটি এমন কোনো উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা যেত, যেখানে সেতুর ঐতিহাসিক সৌন্দর্যও অক্ষুণ্ন থাকত এবং পর্যটকদের আকর্ষণের বিষয়টিও পূরণ হতো।

এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য একটি আকর্ষণীয় স্পট তৈরি এবং নগরের নান্দনিকতা বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এবং তাদের নিজস্ব অর্থায়নে এই সাইনেজটি তৈরি করা হচ্ছে। এর জন্য সিটি করপোরেশন কোনো আর্থিক লেনদেন না করলেও কেবল স্থান ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে কাজটির শেষ পর্যায়ে এসে জনমনে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা করণিক ও পরিকল্পনাগত ত্রুটির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিষয়টি নিয়ে তারা অবগত আছেন এবং গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নগরের পরিবেশ, প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। খুব দ্রুতই সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদি কিনব্রিজের দৃষ্টিসীমায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে তা দূর করতে সাইনেজের স্থান পরিবর্তন বা যথাযথ সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নগরবাসীর আবেগ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরিকল্পিত উদ্যোগ রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।