Dhaka ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: রাষ্ট্র সংস্কার ও অসমাপ্ত এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথরেখা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View

বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই মাস একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও রূপান্তরমূলক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবির মধ্য দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন সূচিত হয়েছিল, তা অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশব্যাপী এক অপ্রতিরোধ্য গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং এর চূড়ান্ত পরিণতিতে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। তবে এই ঐতিহাসিক ঘটনার পর সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্নটি এখন সামনে এসেছে—নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে শুরু হওয়া একটি সাধারণ আন্দোলন কেন শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিতে পর্যবসিত হলো?

বিশ্লেষকদের মতে, এর অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান করতে হলে কেবল কোটা সংস্কারের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। কোটা পদ্ধতি ছিল কেবল একটি তাৎক্ষণিক উদ্দীপক বা অনুঘটক; এর প্রকৃত শেকড় প্রোথিত ছিল দীর্ঘকাল ধরে পুঞ্জীভূত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অসন্তুষ্টির মধ্যে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি তীব্র চাপের মুখে পড়েছিল। দীর্ঘমেয়াদী দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির শ্লথ গতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ধারাবাহিক সংকোচন এবং ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। বিশেষ করে দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ অনুভব করতে শুরু করে যে, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া—উভয় ক্ষেত্রেই তারা ধীরে ধীরে প্রান্তিক হয়ে পড়ছে।

ফলস্বরূপ, কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিটি সময়ের পরিক্রমায় রাষ্ট্র পরিচালনার ন্যায়বিচার, সুশাসন, জবাবদিহি এবং শাসনতান্ত্রিক বৈধতার বৃহত্তর প্রশ্নে রূপ নেয়। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ ছিল না; বরং এটি ছিল এমন এক ধরনের ত্রুটিপূর্ণ উন্নয়ন মডেলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সর্বস্তরে সমানভাবে পৌঁছায়নি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাই জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা কেবল ক্ষমতার পালাবদল ঘটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এর মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক সম্পর্কের এক নতুন সামাজিক চুক্তি প্রতিষ্ঠা করা।

দুটি বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর আজ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাশাগুলো বাস্তবে কতটা অর্জিত হয়েছে? এর উত্তর নির্ভর করে আমরা সাফল্যকে কীভাবে মূল্যায়ন করছি তার ওপর। যদি ক্ষমতার পরিবর্তনকেই একমাত্র মাপকাঠি ধরা হয়, তবে জুলাই নিঃসন্দেহে একটি অতুলনীয় ঐতিহাসিক সাফল্য। কিন্তু যদি মানদণ্ড হয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ কিংবা জনসেবার মানোন্নয়ন, তবে স্বীকার করতেই হবে যে জুলাইয়ের অধিকাংশ সংস্কার এজেন্ডা এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল কতগুলো সংস্কার কমিশন গঠন করা হলো বা কতগুলো নতুন নীতি ঘোষণা করা হলো, তার ওপর নির্ভর করবে না। এর প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে এমন একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, অর্থনীতি হবে গতিশীল ও উৎপাদনশীল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করবে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলকভাবে এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হবে সুরক্ষিত। এই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য অর্জনে কেবল স্বল্পমেয়াদী স্থিতিশীলতা যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন গভীর, ধারাবাহিক ও কাঠামোগত সংস্কার।

সংস্কার প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ওপর জনগণের আহার বা আস্থা পুনর্গঠন। জুলাই আমাদের স্পষ্টভাবে শিখিয়েছে যে, যখন রাজনৈতিক অংশগ্রহণের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত করা হয়, তখন জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ একসময় রাজপথে বিস্ফোরিত হতে বাধ্য। তাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কেবল গণতন্ত্রের পূর্বশর্তই নয়, এটি টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও প্রধান ভিত্তি। একই সঙ্গে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার বলয় থেকে বের হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বৈষম্য হ্রাস এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। দেশের ব্যাংকিং খাত ও রাজস্ব ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম দূর করতে সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনের প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিতে হবে। পরিশেষে, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক বার্তাটি ছিল স্পষ্ট—নাগরিক কেবল ভোটার নন, তাঁরা দেশের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অংশীদার। রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দায়িত্ব কেবল শাসন করা নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সম্ভাবনার বিশ্বস্ত রক্ষক হওয়া।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: রাষ্ট্র সংস্কার ও অসমাপ্ত এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথরেখা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: রাষ্ট্র সংস্কার ও অসমাপ্ত এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথরেখা

Update Time : ১২:৩৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই মাস একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও রূপান্তরমূলক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবির মধ্য দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন সূচিত হয়েছিল, তা অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশব্যাপী এক অপ্রতিরোধ্য গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং এর চূড়ান্ত পরিণতিতে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। তবে এই ঐতিহাসিক ঘটনার পর সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্নটি এখন সামনে এসেছে—নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে শুরু হওয়া একটি সাধারণ আন্দোলন কেন শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিতে পর্যবসিত হলো?

বিশ্লেষকদের মতে, এর অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান করতে হলে কেবল কোটা সংস্কারের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। কোটা পদ্ধতি ছিল কেবল একটি তাৎক্ষণিক উদ্দীপক বা অনুঘটক; এর প্রকৃত শেকড় প্রোথিত ছিল দীর্ঘকাল ধরে পুঞ্জীভূত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অসন্তুষ্টির মধ্যে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি তীব্র চাপের মুখে পড়েছিল। দীর্ঘমেয়াদী দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির শ্লথ গতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ধারাবাহিক সংকোচন এবং ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। বিশেষ করে দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ অনুভব করতে শুরু করে যে, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া—উভয় ক্ষেত্রেই তারা ধীরে ধীরে প্রান্তিক হয়ে পড়ছে।

ফলস্বরূপ, কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিটি সময়ের পরিক্রমায় রাষ্ট্র পরিচালনার ন্যায়বিচার, সুশাসন, জবাবদিহি এবং শাসনতান্ত্রিক বৈধতার বৃহত্তর প্রশ্নে রূপ নেয়। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ ছিল না; বরং এটি ছিল এমন এক ধরনের ত্রুটিপূর্ণ উন্নয়ন মডেলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সর্বস্তরে সমানভাবে পৌঁছায়নি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাই জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা কেবল ক্ষমতার পালাবদল ঘটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এর মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক সম্পর্কের এক নতুন সামাজিক চুক্তি প্রতিষ্ঠা করা।

দুটি বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর আজ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাশাগুলো বাস্তবে কতটা অর্জিত হয়েছে? এর উত্তর নির্ভর করে আমরা সাফল্যকে কীভাবে মূল্যায়ন করছি তার ওপর। যদি ক্ষমতার পরিবর্তনকেই একমাত্র মাপকাঠি ধরা হয়, তবে জুলাই নিঃসন্দেহে একটি অতুলনীয় ঐতিহাসিক সাফল্য। কিন্তু যদি মানদণ্ড হয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ কিংবা জনসেবার মানোন্নয়ন, তবে স্বীকার করতেই হবে যে জুলাইয়ের অধিকাংশ সংস্কার এজেন্ডা এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল কতগুলো সংস্কার কমিশন গঠন করা হলো বা কতগুলো নতুন নীতি ঘোষণা করা হলো, তার ওপর নির্ভর করবে না। এর প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে এমন একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, অর্থনীতি হবে গতিশীল ও উৎপাদনশীল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করবে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলকভাবে এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হবে সুরক্ষিত। এই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য অর্জনে কেবল স্বল্পমেয়াদী স্থিতিশীলতা যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন গভীর, ধারাবাহিক ও কাঠামোগত সংস্কার।

সংস্কার প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ওপর জনগণের আহার বা আস্থা পুনর্গঠন। জুলাই আমাদের স্পষ্টভাবে শিখিয়েছে যে, যখন রাজনৈতিক অংশগ্রহণের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত করা হয়, তখন জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ একসময় রাজপথে বিস্ফোরিত হতে বাধ্য। তাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কেবল গণতন্ত্রের পূর্বশর্তই নয়, এটি টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও প্রধান ভিত্তি। একই সঙ্গে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার বলয় থেকে বের হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বৈষম্য হ্রাস এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। দেশের ব্যাংকিং খাত ও রাজস্ব ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম দূর করতে সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনের প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিতে হবে। পরিশেষে, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক বার্তাটি ছিল স্পষ্ট—নাগরিক কেবল ভোটার নন, তাঁরা দেশের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অংশীদার। রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দায়িত্ব কেবল শাসন করা নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সম্ভাবনার বিশ্বস্ত রক্ষক হওয়া।