Dhaka ০৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যমুনার ভাঙনে বগুড়ার ধুনটে ১২০ মিটার বাঁধ বিলীন, শহরাবাড়ীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ Time View

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে শহরাবাড়ী এলাকার প্রায় ১২০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এই ভাঙনে তীরবর্তী গ্রাম শহরাবাড়ীসহ বিস্তীর্ণ জনপদ এবং ফসলি জমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে বর্ষা মৌসুমে নদীর আগ্রাসী রূপ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের তীব্রতাও বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে শহরাবাড়ী এলাকায় নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি বড় অংশ নদীতে ধসে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাঁধের অন্তত ১২০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, যা এলাকার কৃষি জমি, বসতভিটা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জন্য বড় বিপদ ডেকে এনেছে। এই ভাঙন দ্রুত ঠেকানো না গেলে পার্শ্ববর্তী আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ এবং প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এর প্রধান নদীগুলো, বিশেষ করে যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। যমুনা নদীর প্রশস্ততা এবং এর গতিপথ পরিবর্তনের প্রবণতা এটিকে বাংলাদেশের অন্যতম ভাঙনপ্রবণ নদী হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার একর কৃষি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ এবং অন্যান্য অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, যা লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলে। শহরাবাড়ীর ঘটনা তারই একটি চলমান চিত্র।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বগুড়া জানিয়েছে, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। শত শত জিও ব্যাগ তৈরি করে নদীতে ফেলা হচ্ছে, যাতে ভাঙনের তীব্রতা কিছুটা কমানো যায় এবং বাঁধের অবশিষ্ট অংশ রক্ষা করা সম্ভব হয়। তবে, স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই ভাঙন শুরু হয় এবং শেষ মুহূর্তে লোক দেখানো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তারা একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যা এই অঞ্চলের মানুষকে নদী ভাঙনের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেবে।

নদী ভাঙন শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। যারা তাদের ঘরবাড়ি ও জমি হারান, তাদের অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে চলে যেতে বাধ্য হন, যা শহরাঞ্চলে বস্তি বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারে চাপ সৃষ্টি করে। কৃষিজমি হারানোর ফলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীর আচরণ আরও অপ্রত্যাশিত হয়ে উঠছে, তাই বাঁধ নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি এবং নদী ব্যবস্থাপনায় সামগ্রিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য।

এবারের বর্ষায় যমুনার ভাঙন নতুন করে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে, সাধারণ মানুষ এখন আর শুধু আশ্বাস নয়, কংক্রিট দিয়ে মজবুত টেকসই বাঁধ এবং দীর্ঘমেয়াদী নদী শাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখতে চান, যা তাদের জীবন ও জীবিকাকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: বিজ্ঞান বিষয়ের তৃতীয় অধ্যায়ের মূল ধারণা ও প্রস্তুতি কৌশল

যমুনার ভাঙনে বগুড়ার ধুনটে ১২০ মিটার বাঁধ বিলীন, শহরাবাড়ীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে

Update Time : ০১:১০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে শহরাবাড়ী এলাকার প্রায় ১২০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এই ভাঙনে তীরবর্তী গ্রাম শহরাবাড়ীসহ বিস্তীর্ণ জনপদ এবং ফসলি জমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে বর্ষা মৌসুমে নদীর আগ্রাসী রূপ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের তীব্রতাও বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে শহরাবাড়ী এলাকায় নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি বড় অংশ নদীতে ধসে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাঁধের অন্তত ১২০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, যা এলাকার কৃষি জমি, বসতভিটা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জন্য বড় বিপদ ডেকে এনেছে। এই ভাঙন দ্রুত ঠেকানো না গেলে পার্শ্ববর্তী আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ এবং প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এর প্রধান নদীগুলো, বিশেষ করে যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। যমুনা নদীর প্রশস্ততা এবং এর গতিপথ পরিবর্তনের প্রবণতা এটিকে বাংলাদেশের অন্যতম ভাঙনপ্রবণ নদী হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার একর কৃষি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ এবং অন্যান্য অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, যা লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলে। শহরাবাড়ীর ঘটনা তারই একটি চলমান চিত্র।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বগুড়া জানিয়েছে, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। শত শত জিও ব্যাগ তৈরি করে নদীতে ফেলা হচ্ছে, যাতে ভাঙনের তীব্রতা কিছুটা কমানো যায় এবং বাঁধের অবশিষ্ট অংশ রক্ষা করা সম্ভব হয়। তবে, স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই ভাঙন শুরু হয় এবং শেষ মুহূর্তে লোক দেখানো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তারা একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যা এই অঞ্চলের মানুষকে নদী ভাঙনের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেবে।

নদী ভাঙন শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। যারা তাদের ঘরবাড়ি ও জমি হারান, তাদের অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে চলে যেতে বাধ্য হন, যা শহরাঞ্চলে বস্তি বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারে চাপ সৃষ্টি করে। কৃষিজমি হারানোর ফলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীর আচরণ আরও অপ্রত্যাশিত হয়ে উঠছে, তাই বাঁধ নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি এবং নদী ব্যবস্থাপনায় সামগ্রিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য।

এবারের বর্ষায় যমুনার ভাঙন নতুন করে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে, সাধারণ মানুষ এখন আর শুধু আশ্বাস নয়, কংক্রিট দিয়ে মজবুত টেকসই বাঁধ এবং দীর্ঘমেয়াদী নদী শাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখতে চান, যা তাদের জীবন ও জীবিকাকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবে।