রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের সাহসিকতা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে এক পেশাদার ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ধারালো ছুরি এবং একটি দামি ট্যাব উদ্ধার করা হয়। গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে যাত্রাবাড়ী ২ নম্বর সিগন্যাল এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে যাত্রাবাড়ী ২ নম্বর সিগন্যাল এলাকায় ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের দুজন সার্জেন্ট অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের ওপর অর্পিত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ করেই এক রিকশাযাত্রীর আর্তচিৎকার তাদের কানে আসে। দ্রুত পরিস্থিতি অনুধাবন করে তারা বুঝতে পারেন যে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে ওই দুই ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় স্থানীয় জনতা ও ট্রাফিক সার্জেন্টদের যৌথ প্রচেষ্টায় ওই ছিনতাইকারীকে ঘেরাও করে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার শরীর তল্লাশি করে একটি ভয়ংকর ধারালো ছুরি এবং ছিনতাই হওয়া একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তি এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে জানান, আটক ব্যক্তির নাম মো. হৃদয় (২৮)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় সাধারণ মানুষের পথরোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত মো. হৃদয়কে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিটি ইউনিট এভাবেই তৎপর রয়েছে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন সাহসিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণও পুলিশের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
Reporter Name 




















