Dhaka ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়া দলের সেই সৌহার্দ্য ও গ্রেটদের আচরণ আজও ভুলতে পারেননি খালেদ মাহমুদ সুজন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View

২০০৩ সালের ঐতিহাসিক অস্ট্রেলিয়া সফর এবং সেই সময়ের বিশ্বসেরা অসি ক্রিকেটারদের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের কথা আজও পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ সংগঠক খালেদ মাহমুদ সুজন। সুদূর অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন ও কেয়ার্নসে অনুষ্ঠিত সেই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দুই দশক পেরিয়ে গেলেও স্টিভ ওয়াহ, ম্যাথিউ ল্যাঙ্গার কিংবা ম্যাথিউ হেইডেনদের মতো কিংবদন্তিদের পেশাদারিত্ব এবং উষ্ণ অভ্যর্থনার স্মৃতি আজও তাঁর মানসপটে উজ্জ্বল। তরুণ বাংলাদেশ দলের জন্য সেটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন এবং রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা, যা টাইগারদের মানসিক শক্তিতে বড় ধরনের জোগান দিয়েছিল।

সে সময়কার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সুজন জানান, শৈশব থেকেই অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহর বড় ভক্ত ছিলেন তিনি। ২০০৩ সালের সেই কঠিন সিরিজে ব্র্যাট লি, গ্লেন ম্যাকগ্রা এবং জেসন গিলেস্পির মতো বিশ্বমানের ফাস্ট বোলিং আক্রমণ এবং স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের লেগ স্পিন সামলানো টাইগার ব্যাটারদের জন্য ছিল পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ান দল কোনো ধরনের অবমূল্যায়ন না করে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নেমেছিল এবং শতভাগ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেছিল। এমনকি মাঠের খেলায় কোনো স্লেজিংয়ের নজির ছাড়াই প্রতিপক্ষকে কিভাবে সম্মান জানাতে হয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল স্টিভ ওয়াহর দল।

সিরিজের বিভিন্ন মুহূর্তে অসি ক্রিকেটারদের ইতিবাচক মানসিকতা তরুণ টাইগারদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় টেস্টের পর অস্ট্রেলিয়ান ড্রেসিংরুমে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আমন্ত্রণ জানানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে আড্ডা দেওয়া, ক্যাপ ও স্মারক বদলাবদলি করার ঘটনাটি ছিল নজিরবিহীন। তরুণ মোহাম্মদ আশরাফুলসহ দলের অন্য ক্রিকেটাররা অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও স্টিভ ওয়াহর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ পান। যদিও টিম ম্যানেজমেন্টের একাংশের অভিজ্ঞতা না থাকায় সেই স্মরণীয় মুহূর্তটি দীর্ঘায়িত করতে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, তবুও সামগ্রিক অভিজ্ঞতাটি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অমূল্য।

ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষ ব্যাটার ম্যাথিউ হেইডেনের একটি ক্রীড়াসুলভ আচরণের কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করেন সুজন। তরুণ পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম যখন নতুন বল অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে ওয়াইড লাইনে ফেলছিলেন, তখন খোদ হেইডেন এগিয়ে এসে তাকে বুদ্ধি দেন বল নষ্ট না করে সঠিক লাইন ও লেংথে বল করতে। এই ধরনের পরামর্শ ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব প্রমাণ করে যে তখনকার অস্ট্রেলিয়ান দল কেবল জয় পেতেই খেলত না, বরং ক্রিকেটীয় সংস্কৃতির উন্নয়নেও বিশ্বাসী ছিল। এই ঐতিহাসিক সিরিজটি টাইগারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানিয়ে নিতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে মনে করেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ: ছাত্রশক্তির ৫ দফা দাবি ও বিক্ষোভ

অস্ট্রেলিয়া দলের সেই সৌহার্দ্য ও গ্রেটদের আচরণ আজও ভুলতে পারেননি খালেদ মাহমুদ সুজন

Update Time : ০৫:০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

২০০৩ সালের ঐতিহাসিক অস্ট্রেলিয়া সফর এবং সেই সময়ের বিশ্বসেরা অসি ক্রিকেটারদের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের কথা আজও পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ সংগঠক খালেদ মাহমুদ সুজন। সুদূর অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন ও কেয়ার্নসে অনুষ্ঠিত সেই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দুই দশক পেরিয়ে গেলেও স্টিভ ওয়াহ, ম্যাথিউ ল্যাঙ্গার কিংবা ম্যাথিউ হেইডেনদের মতো কিংবদন্তিদের পেশাদারিত্ব এবং উষ্ণ অভ্যর্থনার স্মৃতি আজও তাঁর মানসপটে উজ্জ্বল। তরুণ বাংলাদেশ দলের জন্য সেটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন এবং রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা, যা টাইগারদের মানসিক শক্তিতে বড় ধরনের জোগান দিয়েছিল।

সে সময়কার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সুজন জানান, শৈশব থেকেই অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহর বড় ভক্ত ছিলেন তিনি। ২০০৩ সালের সেই কঠিন সিরিজে ব্র্যাট লি, গ্লেন ম্যাকগ্রা এবং জেসন গিলেস্পির মতো বিশ্বমানের ফাস্ট বোলিং আক্রমণ এবং স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের লেগ স্পিন সামলানো টাইগার ব্যাটারদের জন্য ছিল পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ান দল কোনো ধরনের অবমূল্যায়ন না করে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নেমেছিল এবং শতভাগ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেছিল। এমনকি মাঠের খেলায় কোনো স্লেজিংয়ের নজির ছাড়াই প্রতিপক্ষকে কিভাবে সম্মান জানাতে হয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল স্টিভ ওয়াহর দল।

সিরিজের বিভিন্ন মুহূর্তে অসি ক্রিকেটারদের ইতিবাচক মানসিকতা তরুণ টাইগারদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় টেস্টের পর অস্ট্রেলিয়ান ড্রেসিংরুমে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আমন্ত্রণ জানানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে আড্ডা দেওয়া, ক্যাপ ও স্মারক বদলাবদলি করার ঘটনাটি ছিল নজিরবিহীন। তরুণ মোহাম্মদ আশরাফুলসহ দলের অন্য ক্রিকেটাররা অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও স্টিভ ওয়াহর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ পান। যদিও টিম ম্যানেজমেন্টের একাংশের অভিজ্ঞতা না থাকায় সেই স্মরণীয় মুহূর্তটি দীর্ঘায়িত করতে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, তবুও সামগ্রিক অভিজ্ঞতাটি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অমূল্য।

ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষ ব্যাটার ম্যাথিউ হেইডেনের একটি ক্রীড়াসুলভ আচরণের কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করেন সুজন। তরুণ পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম যখন নতুন বল অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে ওয়াইড লাইনে ফেলছিলেন, তখন খোদ হেইডেন এগিয়ে এসে তাকে বুদ্ধি দেন বল নষ্ট না করে সঠিক লাইন ও লেংথে বল করতে। এই ধরনের পরামর্শ ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব প্রমাণ করে যে তখনকার অস্ট্রেলিয়ান দল কেবল জয় পেতেই খেলত না, বরং ক্রিকেটীয় সংস্কৃতির উন্নয়নেও বিশ্বাসী ছিল। এই ঐতিহাসিক সিরিজটি টাইগারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানিয়ে নিতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে মনে করেন খালেদ মাহমুদ সুজন।