Dhaka ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নিয়ে ইরান ও ওমানের ঐতিহাসিক সমঝোতা, মার্কিন ভূমিকা নিয়ে শঙ্কা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ ইরান ও ওমান। কৌশলগত এই জলপথ যৌথভাবে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যালোচনার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া হলেও এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধ এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক হুমকি পরিস্থিতিকে যেকোনো মুহূর্তে জটিল করে তুলতে পারে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক আলোচনার পর এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে এই সমঝোতার বিষয়টি প্রথম জনসমক্ষে আনেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল জাহাজ চলাচলের স্বার্থে উভয় দেশ একটি নতুন পথ অনুসরণ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক কোনো পক্ষ বা শক্তি যদি এতে অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি না করে, তবে খুব দ্রুতই দুই দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে। ওই বিবৃতিতে নতুন এই ব্যবস্থার মূল রূপরেখা ও শর্তগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে ওমানের সঙ্গে এই ইতিবাচক কূটনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করে বলেন, এই জলপথকে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ও অশান্ত করে রাখার মূল কারণ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নৌ নীতি। ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে ওয়াশিংটন যে নৌ অবরোধ এবং সামরিক হুমকি অব্যাহত রেখেছে, তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় অন্তরায়। অতীতে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হতো, কিন্তু বর্তমান সংঘাতের জেরে তেহরান এই জলপথের নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের সঙ্গে এই সমঝোতা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে তেহরানের একটি বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিজয়। নতুন এই বন্দোবস্ত অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নৌপথটির সিংহভাগ অংশই ইরানের নিজস্ব আঞ্চলিক জলসীমার ভেতর দিয়ে পরিচালিত হবে এবং কিছু অংশ ওমানের সীমানা ছুঁয়ে যাবে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে এই জলপথটি দুই থেকে চার মাস ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে স্থায়ী করার এই প্রচেষ্টার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার চ্যালেঞ্জও এখন তেহরানের সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ট্রাফিক পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে দেশীয় অস্ত্র ও ট্যাবসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নিয়ে ইরান ও ওমানের ঐতিহাসিক সমঝোতা, মার্কিন ভূমিকা নিয়ে শঙ্কা

Update Time : ০৬:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ ইরান ও ওমান। কৌশলগত এই জলপথ যৌথভাবে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যালোচনার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া হলেও এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধ এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক হুমকি পরিস্থিতিকে যেকোনো মুহূর্তে জটিল করে তুলতে পারে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক আলোচনার পর এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে এই সমঝোতার বিষয়টি প্রথম জনসমক্ষে আনেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল জাহাজ চলাচলের স্বার্থে উভয় দেশ একটি নতুন পথ অনুসরণ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক কোনো পক্ষ বা শক্তি যদি এতে অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি না করে, তবে খুব দ্রুতই দুই দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে। ওই বিবৃতিতে নতুন এই ব্যবস্থার মূল রূপরেখা ও শর্তগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে ওমানের সঙ্গে এই ইতিবাচক কূটনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করে বলেন, এই জলপথকে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ও অশান্ত করে রাখার মূল কারণ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নৌ নীতি। ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে ওয়াশিংটন যে নৌ অবরোধ এবং সামরিক হুমকি অব্যাহত রেখেছে, তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় অন্তরায়। অতীতে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হতো, কিন্তু বর্তমান সংঘাতের জেরে তেহরান এই জলপথের নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের সঙ্গে এই সমঝোতা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে তেহরানের একটি বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিজয়। নতুন এই বন্দোবস্ত অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নৌপথটির সিংহভাগ অংশই ইরানের নিজস্ব আঞ্চলিক জলসীমার ভেতর দিয়ে পরিচালিত হবে এবং কিছু অংশ ওমানের সীমানা ছুঁয়ে যাবে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে এই জলপথটি দুই থেকে চার মাস ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে স্থায়ী করার এই প্রচেষ্টার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার চ্যালেঞ্জও এখন তেহরানের সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।