রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে মো. শুরুজ শেখ (৪০) নামের এক নিরাপত্তাকর্মীর করুণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আঘাত পান। পরে সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত মো. শুরুজ শেখ টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার বাজুয়ার টেক গ্রামের মৃত বাদরী শেখের সুযোগ্য সন্তান ছিলেন। তিনি কর্মক্ষেত্রের তাগিদে ওই দশতলা নির্মাণাধীন ভবনেই বসবাস করতেন এবং সেখানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও তার সহকর্মী মো. সোহেল রানার ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সকালে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ভবনটিতে পানি ছিটানোর কাজ করছিলেন শুরুজ শেখ। এমন সময় কোনো এক মুহূর্তে অসাবধানতাবশত তিনি ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ থেকে নিচের দিকে পড়ে যান। আকস্মিক এই পতনের ফলে তার শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে মারাত্মক আঘাত লাগে। সহকর্মীরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু ঘটেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পুলিশ ফাঁড়ির তদারকিতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতের মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে কর্মরত শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে আবারও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার ফলে প্রায়ই এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে শ্রম আইন ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না করলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
Reporter Name 


















