কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাথে গোপন তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে এমন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই বিশেষ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ কিংবা চূড়ান্ত বরখাস্তের মতো কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে গত বুধবার রাতে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০৪ জন শিক্ষক ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধঘোষিত দলটির বিভিন্ন কার্যক্রমে গোপনে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই তালিকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েরও বেশ কয়েকজন শিক্ষক রয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে, যা শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্তদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এবং তাদের গোপন কার্যক্রমের সত্যতা যাচাই করতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মোড. রেজাউল করিমকে। এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. গোলাম সাদিক, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান। অন্যদিকে, সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। সিন্ডিকেট সদস্যের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ করে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ জানান, অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে গঠিত এই অনুসন্ধান কমিটির প্রথম সভা খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলোর ভেতরে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং গোপনে চলা বিভিন্ন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন শিক্ষক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে দলীয় প্রভাবমুক্ত একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছিল। বর্তমান প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং একাডেমিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 





















