Dhaka ০১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপিপির ক্রয়াদেশ স্থগিত: অনিশ্চয়তার মুখে ৭০ কোটি ডলারের বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯ Time View

পোল্যান্ডভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড এলপিপি এসএ-এর ঢাকা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং পুলিশি হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশে তাদের সমস্ত নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করা হয়েছে। এই আকস্মিক পদক্ষেপে দেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মুখে পড়েছে। বার্ষিক প্রায় ৭০ কোটি ডলার বা প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ পোশাক আমদানি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন এ খাতের স্থানীয় সরবরাহকারী ও উদ্যোক্তারা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের সুরক্ষায় দ্রুত উচ্চপর্যায়ের সমঝোতার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতারা।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত রাশিয়ান খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশি বায়িং হাউসের বকেয়া পাওনা নিয়ে উদ্ভূত বিরোধকে কেন্দ্র করে। জানা যায়, গত বছরের এপ্রিলে ‘এনসা ক্লথিং’ নামের একটি বায়িং হাউসের মাধ্যমে রাশিয়ায় ৫২ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের ট্রাউজার রপ্তানি করা হলেও সেই পণ্যের অর্থ পরিশোধ করেনি এফইএস রিটেইল। দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে গত মাসে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় এলপিপি ঢাকা কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়, যার জেরে পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকেও তাদের বাসভবনে অভিযান ও হয়রানির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার পর গত ২১ জুলাই বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিজিবিএ-এর মতো শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয় এলপিপি কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয় যে, বাংলাদেশি কারখানার অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত বিরোধের জন্য তারা সরাসরি দায়ী নয়, অথচ তাদের কর্মীদের অযাচিত পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তারা বাংলাদেশে নিজেদের ব্যবসার পরিধি ও নতুন ক্রয়াদেশের পরিমাণ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর গত ৩১ জুলাই সরবরাহকারীদের কাছে পাঠানো এক চূড়ান্ত বার্তায় এলপিপি জানায়, সমস্যার কোনো গঠনমূলক সমাধান না হওয়ায় নতুন পণ্যের উন্নয়ন ও ক্রয়াদেশ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী রূপরেখা জানানো হবে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকারকদের দাবি, এফইএস রিটেইলের সঙ্গে এলপিপির প্রত্যক্ষ সংযোগ ও আর্থিক নিশ্চয়তার মাধ্যমেই তারা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ফলে এই দায় পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই এলপিপির। অন্যদিকে, পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ জানায়, আইনি পর্যালোচনায় এলপিপির সরাসরি কোনো দায় পাওয়া যায়নি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের শীর্ষ মহলে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, বৈশ্বিক ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি না ঘটিয়ে এবং দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রেখে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। বিশ্বজুড়ে হাজারো বিক্রয়কেন্দ্র থাকা এই প্রধান ক্রেতার সঙ্গে সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের শত শত কারখানা ও লাখো কর্মসংস্থান বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: রাষ্ট্র সংস্কার ও অসমাপ্ত এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথরেখা

এলপিপির ক্রয়াদেশ স্থগিত: অনিশ্চয়তার মুখে ৭০ কোটি ডলারের বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি

Update Time : ১০:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

পোল্যান্ডভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড এলপিপি এসএ-এর ঢাকা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং পুলিশি হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশে তাদের সমস্ত নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করা হয়েছে। এই আকস্মিক পদক্ষেপে দেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মুখে পড়েছে। বার্ষিক প্রায় ৭০ কোটি ডলার বা প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ পোশাক আমদানি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন এ খাতের স্থানীয় সরবরাহকারী ও উদ্যোক্তারা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের সুরক্ষায় দ্রুত উচ্চপর্যায়ের সমঝোতার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতারা।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত রাশিয়ান খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশি বায়িং হাউসের বকেয়া পাওনা নিয়ে উদ্ভূত বিরোধকে কেন্দ্র করে। জানা যায়, গত বছরের এপ্রিলে ‘এনসা ক্লথিং’ নামের একটি বায়িং হাউসের মাধ্যমে রাশিয়ায় ৫২ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের ট্রাউজার রপ্তানি করা হলেও সেই পণ্যের অর্থ পরিশোধ করেনি এফইএস রিটেইল। দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে গত মাসে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় এলপিপি ঢাকা কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়, যার জেরে পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকেও তাদের বাসভবনে অভিযান ও হয়রানির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার পর গত ২১ জুলাই বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিজিবিএ-এর মতো শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয় এলপিপি কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয় যে, বাংলাদেশি কারখানার অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত বিরোধের জন্য তারা সরাসরি দায়ী নয়, অথচ তাদের কর্মীদের অযাচিত পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তারা বাংলাদেশে নিজেদের ব্যবসার পরিধি ও নতুন ক্রয়াদেশের পরিমাণ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর গত ৩১ জুলাই সরবরাহকারীদের কাছে পাঠানো এক চূড়ান্ত বার্তায় এলপিপি জানায়, সমস্যার কোনো গঠনমূলক সমাধান না হওয়ায় নতুন পণ্যের উন্নয়ন ও ক্রয়াদেশ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী রূপরেখা জানানো হবে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকারকদের দাবি, এফইএস রিটেইলের সঙ্গে এলপিপির প্রত্যক্ষ সংযোগ ও আর্থিক নিশ্চয়তার মাধ্যমেই তারা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ফলে এই দায় পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই এলপিপির। অন্যদিকে, পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ জানায়, আইনি পর্যালোচনায় এলপিপির সরাসরি কোনো দায় পাওয়া যায়নি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের শীর্ষ মহলে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, বৈশ্বিক ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি না ঘটিয়ে এবং দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রেখে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। বিশ্বজুড়ে হাজারো বিক্রয়কেন্দ্র থাকা এই প্রধান ক্রেতার সঙ্গে সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের শত শত কারখানা ও লাখো কর্মসংস্থান বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।