Dhaka ০১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিতর্ক ও তীব্র লড়াইয়ের পর ওটিটি রিয়েলিটি শো ‘লক আপ ২’-এর বিজয়ী শ্রেয়া কালরা, জিতলেন ১ কোটি রুপি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ Time View

ভারতের বিনোদন অঙ্গনে দীর্ঘ টানাপোড়েন ও বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দিয়ে অবশেষে পর্দা নামল জনপ্রিয় ওটিটি রিয়েলিটি শো ‘লক আপ’-এর দ্বিতীয় মৌসুমের। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত বিজয়ীর ট্রফি ছিনিয়ে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ এবং কনটেন্ট নির্মাতা শ্রেয়া কালরা। বিজয়ী হিসেবে তিনি ট্রফির পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে জিতে নিয়েছেন নগদ ১ কোটি রুপি। শুরু থেকেই নানা ধরনের স্ট্র্যাটেজি, স্পষ্টভাষিতা এবং মানসিক দৃঢ়তার সুবাদে দর্শকদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি।

১৯৯৭ সালের ১৪ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্ম নেওয়া শ্রেয়া কালরা শিক্ষাজীবনে এমবিএ সম্পন্ন করেন। টিকটক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনোদন জগতে তাঁর পথচলা শুরু হয়। নাচলিপসিংক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি অল্প সময়েই তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তীতে ভারতে টিকটক নিষিদ্ধ হলে তিনি ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। ফ্যাশন, লাইফস্টাইল এবং নাচের ভিডিও তৈরি করে তিনি ডিজিটাল দুনিয়ায় একটি শক্তিশালী অনুসারী ভিত্তি তৈরি করেন। কেবল কনটেন্ট তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি ২০২০ সালে ‘এমটিভি রোডিজ রেভোল্যুশন’-এ ওয়াইল্ডকার্ড প্রতিযোগী হিসেবে যুক্ত হন, যা তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মোড় আনে।

‘লক আপ’ শোয়ের দ্বিতীয় আসরে শ্রেয়ার যাত্রাটি মোটেও সহজ ছিল না। শোয়ের ভেতর বিভিন্ন প্রতিযোগী যেমন—শিবাঙ্গী জোশী, আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী, যোগেশ রাওয়াত ও হর্ষদ চোপড়ার সঙ্গে তাঁর একাধিকবার তীব্র বাক্‌বিতণ্ডা হয়। বিশেষ করে এক প্রতিযোগীর ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার পর শোয়ের ভেতর বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ প্রতিযোগী তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। প্রবীণ অভিনেত্রী ও প্রতিযোগী শিল্পা শিন্দের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বও দর্শকদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তবে সব ধরনের বিতর্ক ও প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে নিজের লক্ষ্য অর্জনে অবিচল ছিলেন শ্রেয়া।

বিতর্ক সত্ত্বেও প্রতিটি টাস্কে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং আত্মবিশ্বাস তাঁকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়। অনেকেই এই মৌসুমকে ব্যঙ্গ বা রসিকতা করে ‘দ্য শ্রেয়া কালরা শো’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন, যা তাঁর শো জুড়ে প্রভাবের কথা স্পষ্ট করে। শেষ পর্যন্ত দর্শকের ভোট এবং সামগ্রিক ধারাবাহিকতার ওপর ভিত্তি করে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় শ্রেয়াকে। টিকটক থেকে শুরু করে রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চ জয়—শ্রেয়া কালরার এই দীর্ঘ পথচলা ভারতের ডিজিটাল বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুন উদাহরণের সৃষ্টি করেছে। এই জয় তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: রাষ্ট্র সংস্কার ও অসমাপ্ত এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথরেখা

বিতর্ক ও তীব্র লড়াইয়ের পর ওটিটি রিয়েলিটি শো ‘লক আপ ২’-এর বিজয়ী শ্রেয়া কালরা, জিতলেন ১ কোটি রুপি

Update Time : ১১:০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের বিনোদন অঙ্গনে দীর্ঘ টানাপোড়েন ও বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দিয়ে অবশেষে পর্দা নামল জনপ্রিয় ওটিটি রিয়েলিটি শো ‘লক আপ’-এর দ্বিতীয় মৌসুমের। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত বিজয়ীর ট্রফি ছিনিয়ে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ এবং কনটেন্ট নির্মাতা শ্রেয়া কালরা। বিজয়ী হিসেবে তিনি ট্রফির পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে জিতে নিয়েছেন নগদ ১ কোটি রুপি। শুরু থেকেই নানা ধরনের স্ট্র্যাটেজি, স্পষ্টভাষিতা এবং মানসিক দৃঢ়তার সুবাদে দর্শকদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি।

১৯৯৭ সালের ১৪ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্ম নেওয়া শ্রেয়া কালরা শিক্ষাজীবনে এমবিএ সম্পন্ন করেন। টিকটক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনোদন জগতে তাঁর পথচলা শুরু হয়। নাচলিপসিংক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি অল্প সময়েই তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তীতে ভারতে টিকটক নিষিদ্ধ হলে তিনি ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। ফ্যাশন, লাইফস্টাইল এবং নাচের ভিডিও তৈরি করে তিনি ডিজিটাল দুনিয়ায় একটি শক্তিশালী অনুসারী ভিত্তি তৈরি করেন। কেবল কনটেন্ট তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি ২০২০ সালে ‘এমটিভি রোডিজ রেভোল্যুশন’-এ ওয়াইল্ডকার্ড প্রতিযোগী হিসেবে যুক্ত হন, যা তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মোড় আনে।

‘লক আপ’ শোয়ের দ্বিতীয় আসরে শ্রেয়ার যাত্রাটি মোটেও সহজ ছিল না। শোয়ের ভেতর বিভিন্ন প্রতিযোগী যেমন—শিবাঙ্গী জোশী, আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী, যোগেশ রাওয়াত ও হর্ষদ চোপড়ার সঙ্গে তাঁর একাধিকবার তীব্র বাক্‌বিতণ্ডা হয়। বিশেষ করে এক প্রতিযোগীর ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার পর শোয়ের ভেতর বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ প্রতিযোগী তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। প্রবীণ অভিনেত্রী ও প্রতিযোগী শিল্পা শিন্দের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বও দর্শকদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তবে সব ধরনের বিতর্ক ও প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে নিজের লক্ষ্য অর্জনে অবিচল ছিলেন শ্রেয়া।

বিতর্ক সত্ত্বেও প্রতিটি টাস্কে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং আত্মবিশ্বাস তাঁকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়। অনেকেই এই মৌসুমকে ব্যঙ্গ বা রসিকতা করে ‘দ্য শ্রেয়া কালরা শো’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন, যা তাঁর শো জুড়ে প্রভাবের কথা স্পষ্ট করে। শেষ পর্যন্ত দর্শকের ভোট এবং সামগ্রিক ধারাবাহিকতার ওপর ভিত্তি করে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় শ্রেয়াকে। টিকটক থেকে শুরু করে রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চ জয়—শ্রেয়া কালরার এই দীর্ঘ পথচলা ভারতের ডিজিটাল বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুন উদাহরণের সৃষ্টি করেছে। এই জয় তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।